জানালার বাইরের স্কুল | গ্রামীণ শিক্ষার বাস্তবতা ও আলোর গল্প

হাসানের ছোট পাঠশালা - অনুপ্রেরণামূলক গল্প

🌱 হাসানের ছোট পাঠশালা

একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প | মানুষ গড়ার ডায়েরি

Children Studying Under Tree

বৃষ্টির পর থেমে যাওয়া কাদা রাস্তা পেরিয়ে হাসান স্কুলে আসে প্রতিদিন। তার স্কুল বলতে একটা ছোট টিনের ঘর—চারদিকে বাঁশের বেড়া, টিনের ছাউনি, আর সামনে একটা বটগাছ। বইপত্র জমে ভিজে যায় প্রায়ই, কিন্তু তবুও সে আসে।

হাসানের চোখে বড় শহরের স্কুলগুলো এক ধরনের রূপকথা। সেখানে কম্পিউটার আছে, প্রজেক্টর আছে, ইংরেজি বলা স্যারেরা আছে। আর তার স্কুলে? একটাই শিক্ষক—তিন ক্লাস একসাথে পড়ান। ঘন্টা বাজে না, খাতা নেই, টিফিন নেই, শুধু স্বপ্ন আছে।

একদিন হঠাৎ সে শুনল সরকার স্কুলে ট্যাব দিচ্ছে, ডিজিটাল পাঠ দিচ্ছে, শিক্ষা নাকি প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। কিন্তু তার গ্রামের নাম কোথাও নেই। সেদিন সে জানালার পাশে বসে ভাবল—এদেশে জানালার বাইরেও কিছু শিক্ষার্থী থেকে যায়, যাদের দিকে কেউ তাকায় না।

পরদিন সে একটি কাজ করল। বাবার পুরোনো মোবাইলটা নিয়ে গ্রামের ছোট ছোট ভাইবোনদের বসিয়ে পড়াতে লাগল। ইউটিউবে ভিডিও দেখে ইংরেজির অ-আ শেখাল, গণিতে যোগ-বিয়োগ বুঝাল। ধীরে ধীরে আরও ৭-৮ জন ছাত্র জুটল তার চারপাশে।

“তোমরা জানালার বাইরের ছাত্র, কিন্তু জ্ঞান আলো সবার জন্য।” — হাসান

তার ছোট পাঠশালা শুরু হলো গাছতলায়।

👉 আরও অনুপ্রেরণামূলক গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
💡 গল্পের বার্তা:

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক আলো এসেছে, অনেক প্রগতির ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু সব আলো এখনো সব ঘরে পৌঁছায়নি। শহরের সুবিধা আর গ্রামের বাস্তবতা এখনো অনেক দূরের গল্প। বদল আসে, যখন একজন হাসান জানালা না পেরিয়েও আলো আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

🎁

আরও পোস্ট বা কুইজ দেখতে চাও?

পরবর্তী ধাপগুলো আনলক করতে একটি ছোট বিজ্ঞাপন দেখো। এটি আমাদের ব্লগ সচল রাখতে সাহায্য করে।

View a short ad

বিজ্ঞাপন — দিন প্রতি মাত্র ১ বার