একটি ছোট শহরের মাঝেই বাস করতো এক ছোট্ট ছেলে, আরিফ। আরিফ ছিল খুবই মেধাবী, কিন্তু পড়াশোনায় মন বসানো তার জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিদিন স্কুলে যেতে গিয়ে, সে ভাবত— “আজ তো মন দিয়ে পড়বই!” কিন্তু কিছুক্ষণ পড়ার পরই মনে হতো, "আমার টেবিলের ওপর যে অনেক কিছু পড়ে আছে!" বা “আজ তো খেলাধুলা করলে ভালো লাগবে।”
আরিফের মা, সুমি আপা, তাকে অনেক পরামর্শ দিলেও, কিছুতেই আরিফ পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছিল না। একদিন, সুমি আপা তাকে বললেন, “আরিফ, আমি তোমাকে পড়াশোনায় মন বসানোর কিছু কৌশল দেব। তুমি চেষ্টা করলে, আমি নিশ্চিত তোমার মনোযোগ অনেক ভালো হবে।”
আরিফ খুব আগ্রহ নিয়ে সুমি আপার কথাগুলো শুনতে শুরু করল। সুমি আপা একে একে জানালেন ৭টি সহজ কৌশল, যা তাকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সাহায্য করতে পারে।
১. একটুকু সময় ভাগ করে পড়ো
"প্রথম কৌশল, আরিফ, হল পোমোডোরো টেকনিক। তুমি ২৫ মিনিট পড়ো, তারপর ৫ মিনিটের বিরতি নাও। তারপর আবার ২৫ মিনিট পড়ো। এতে তোমার মনোযোগ থাকবে, আর ক্লান্তিও কম হবে।”
আরিফ ভাবল, “এটা তো বেশ সহজ। আমি ২৫ মিনিট পড়বো, এরপর একটু বিরতি নেব!”
২. একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ো
“আরিফ, পড়াশোনার জন্য এক জায়গা ঠিক করো। যেমন তোমার পড়ার টেবিল। সেখানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা থাকবে না, শুধু তোমার পড়ার বই এবং দরকারি জিনিসগুলো থাকবে। এভাবে তোমার মনোযোগ একটা জায়গাতেই থাকবে।”
আরিফ ভাবল, “এটা তো ভালো আইডিয়া! আমার টেবিলটা একটু পরিষ্কার করে পড়া শুরু করি।”
৩. প্রতিটি পাঠে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করো
“পড়াশোনা বড় হলে, তুমি হয়তো ভেবেও পাচ্ছো না কোন অংশটা আগে পড়বে। কিন্তু প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করো। যেমন, 'আজ আমি ৩টি পৃষ্ঠা পড়বো,' বা 'আজ আমি সেকেন্ড প্যারাগ্রাফ শেষ করবো।' এতে কাজটা সহজ হবে।”
আরিফ জানল, “অর্থাৎ, পড়াশোনাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করলে আমাকে সহজেই লক্ষ্য পূরণ করতে সাহায্য করবে।”
৪. পড়ার সময় স্মার্টফোন দূরে রাখো
“আরিফ, যখন তুমি পড়বে, তখন তোমার ফোনটাকে দূরে রাখবে। ফোনের নোটিফিকেশনগুলো মনোযোগ ছিন্ন করতে পারে। যদি কিছু জরুরি থাকে, পড়ার বিরতিতে দেখে নিও। তবে পড়ার সময়, মনোযোগ শুধুই বইয়ের ওপর দাও।”
“ঠিক আছে, আমি ফোনটি দূরে রাখবো,” বলল আরিফ।
৫. পড়াশোনা শেষে পুরস্কার রাখো
“আরিফ, পড়াশোনা শেষে নিজেকে কিছু পুরস্কৃত করো। যেমন, যদি তুমি ২ ঘণ্টা পড়ো, তাহলে নিজের জন্য কিছু মজার কাজ করতে পারো। এটি তোমাকে উৎসাহিত করবে।”
আরিফ বলল, “তাহলে আমি পড়ার পর গেম খেলতে পারব, যেমন সুমি আপা বললেন!”
৬. বড় লক্ষ্যকে ছোট অংশে ভাগ করো
“যদি তোমার কাছে বড় কোনো পরীক্ষা বা বড় কিছু শিখতে হয়, তবে পুরোটা একবারে না ভেবে, প্রতিদিন কিছু অংশে ভাগ করো। যেমন, ‘আজ আমি ২টি অধ্যায় শেষ করবো’ বা ‘আজ আমি ১০টি সমস্যা সমাধান করবো’। এটা তোমার জন্য আরও সহজ হবে।”
আরিফের মনে হল, “এটা খুবই কার্যকরী কৌশল! আমি আজকের কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেবো।”
৭. বন্ধুদের সাহায্য নাও
“আরিফ, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে একাকী চেষ্টা করা কঠিন হতে পারে। তাই তোমার বন্ধুদের সাথে পড়ো, একে অপরকে সাহায্য করো। যখন একে অপরকে পড়ানোর চেষ্টা করবে, তখন তোমার নিজের বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।”
আরিফ চিন্তা করল, “তাহলে আমি আমার বন্ধুদের সাথে পড়াশোনার প্ল্যান করতে পারি, এতে মজা হবে এবং ভালোভাবে শিখতে পারব।”
সুমি আপা আরিফকে কৌশলগুলো শিখিয়ে দিলে, আরিফ ধীরে ধীরে নিজের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে শুরু করল। সে প্রতিদিন কৌশলগুলো অনুসরণ করল এবং দেখতে পেল যে, পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। এখন সে আর চিন্তা করে না যে কখন সময় নষ্ট হবে, কারণ সে জানত যে, ২৫ মিনিট পর ৫ মিনিটের বিরতি নিয়ে সে তার পড়াশোনা আরও ভালোভাবে করতে পারবে।
আরিফ আনন্দিত হয়ে বলল, “ধন্যবাদ, সুমি আপা! আপনি আমাকে এই কৌশলগুলো শিখিয়েছেন, আমি এখন পড়াশোনায় ভালো ফল করবো।”
শেষ কথা:
যদি আপনি নিজে বা আপনার কোনো বন্ধু পড়াশোনায় মনোযোগী হতে চান, তবে এই ৭টি সহজ কৌশল অনুসরণ করতে পারেন। প্রতিটি কৌশলই আপনাকে পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী করে তুলবে, আর আপনি দ্রুত ভালো ফল পেতে পারবেন!
#মনোযোগেরখোঁজে #আরিফেরনতুনপথ #শিক্ষারউন্নতি #মনোযোগীশিক্ষা #নতুনদিশা #হৃদয়েরপাঠশালা #প্রেরণাদায়কগল্প

0 মন্তব্যসমূহ