![]() |
| ঈদের আসল শিক্ষা – ত্যাগ ও ভালোবাসা |
গল্পের শিরোনামঃ ঈদের আসল শিক্ষা – ত্যাগ ও ভালোবাসা।
এক বিকেলে গ্রামের ছোট্ট এক বাগানের ধারে এক গরু কান্না করছিল। তার চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল ঝরছিল, যেন কোনো গভীর বেদনা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। গরুটির পাশ দিয়ে ছোট্ট মাহিম হেঁটে যাচ্ছিল। সে গরুটির কান্না দেখে থেমে গেল, অবাক হয়ে গরুটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“গরু দাদা, তুমি কাঁদছো কেন এত? কান্নার কারণ কী?”
গরুটি ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বলল,
“মাহিম সামনে ঈদ আসছে, সবাই আনন্দ করবে, হাসবে, খুশিতে ভরে যাবে। কিন্তু আমাদের অবস্থা অন্যরকম। সেই ঈদের দিনই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে আমাদের, আর ভালোবাসার মানুষদের ছেড়ে যেতে হবে।”
মাহিম একটু চুপ করে রইল। তার ছোট্ট মনে একটা অসহায় দুঃখ ঢেউ খেলল। সে গরুটির কষ্ট বুঝতে পারল। কিছুক্ষণ নীরবতা থাকার পর, সে কোমল কণ্ঠে বলল,
“তাহলে তোমরা কি জানো? তোমরা তো ধন্য আল্লাহর জন্য। তোমরা আমাদের জীবনে ভালোবাসা, শান্তি আর আনন্দ বয়ে আনো। ঈদের হাসি তোমাদের বলিদানের জন্যই হয়। তোমাদের কারণেই মানুষ ভালোবাসার মূল্য বুঝতে পারে।”
গরুটির চোখে তখন কিছুটা স্বস্তি ফুটে উঠল। কান্নার জলে মিশে গেল এক নতুন আশার আলো। মাহিমের কথা শুনে মনে হলো, গরুটি বুঝল তার জীবন শুধু দুঃখ নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার এক আলোকবর্তিকা।
মাহিম বেগমতি হাসি দিয়ে বলল,
“তোমাদের ভালোবাসা কখনো ভুলবে না কেউ, গরু দাদা। ঈদের আনন্দ তোমাদেরও।”
গরুটি একবার আরেকবার মাথা নেড়ে হাসল, যেন নতুন জীবন পেয়েছে।
মাহিম চলে গেল, আর গরুটি শান্তির সঙ্গে বাগানের ধারে বসে থেকে ভাবতে লাগল — জীবনের শেষ সময়ে ও ভালোবাসা থেকেই শক্তি পায়।
"কোরবানির শিক্ষা—ত্যাগ, ভালোবাসা আর আল্লাহর সন্তুষ্টি।"

0 মন্তব্যসমূহ