কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং
কমিউনিকেশন সিস্টেমস (Communication Systems)
Communication বা যোগাযোগ শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন ‘Communicare’ থেকে, যার আদান-প্রদান। মূলত যে পদ্ধতিতে তথ্যকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমের সাহায্যে স্থানান্তর করা হয় তাকেই Communication System বা যোগাযোগ ব্যবস্থা বলে। এই তথ্য আদান-প্রদানের জন্য টেলিফোন, মোবাইল, কম্পিউটার, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ইত্যাদি বিভিন্ন Electronic Device সমূহ ব্যবহার করা হয়।
কমিউনিকেশন সিস্টেমে Signal একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে মূলত কোনো তথ্য Signal এর মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়ে থাকে। Signal দুই ধরনের –
Analog Signal : যে সংকেতের মান সময়ের সাপেক্ষে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিবর্তন হয় এবং যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো মানে থাকতে পারে তাকে Analog Signal বলে। এই ধরণের সংকেত Sinewave তৈরি করে।
Digital Signal : যে সংকেতের মান সময়ের সাপেক্ষে ধাপে ধাপে পরিবর্তন হয় তাকে Digital Signal বলে। এই ধরণের সংকেত মূলত Square wave তৈরি করে।
ডেটা কমিউনিকেশন (Data Communication System) Signal Processing বা সংকেত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে কোনো ডেটা এক ডিভাইস হতে অন্য ডিভাইসে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকেই Data Communication System বলে। এক্ষেত্রে দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করার জন্য পাঁচটি প্রধান উপাদান প্রয়োজন – Source : যে ডিভাইস হতে ডেটা পাঠানো হয় সেটি হলো Source বা উৎস। যেমন – কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি। Transmitter : Transmitter বা প্রেরক যন্ত্র মূলত উৎস হতে কোনো ডেটা নিয়ে তা কমিউনিকেশন মাধ্যমে পাঠায়। যেমন – মডেম। Transmission System : মূলত যে মাধ্যম দিয়ে ডেটা স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। একে Communication Medium ও বলা হয়। যেমন – অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি। Receiver : Transmission System এর মাধ্যমে ডেটা যেখানে পাঠানো হয় সেটি হলো Receiver বা গ্রাহক। এটি ডেটা গ্রহণ করে গন্তব্যস্থানে পাঠায়। যেমন – মডেম। Destination : সর্বশেষ যে ডিভাইস প্রেরিত তথ্য গ্রহণ করে। যেমন – কম্পিউটার, সার্ভার ইত্যাদি। Data Transmission Speed Data Transmission Speed হলো ডেটা স্থানান্তরের হার। অর্থাৎ একক সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কিংবা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যে পরিমাণ ডেটা পরিবাহিত হয় তাকেই Data Transmission Speed বা Bandwidth বলে। Bandwidth সাধারণত bps বা Bit per Second এ হিসেব করা হয়। Data Transmission Speed কে তিনভাবে ভাগ করা হয় – Narrow Band : একে Sub-Voice Band ও বলা হয়ে থাকে। মূলত ধীর গতিতে ডেটা স্থানান্তরের জন্য এই ব্যান্ড উপযোগী। এক্ষেত্রে এই ব্যান্ডের গতিসীমা 45 bps থেকে 300 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। তারের ব্যবহার বেশি হওয়ার জন্য টেলিগ্রাফিতে এই ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। Voice Band : এই ব্যান্ডের গতি 9600 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই ব্যান্ড বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কম্পিউটার থেকে প্রিন্টার বা কার্ড রিডারে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়। Broad Band : সবচেয়ে দ্রুত গতির ডেটা স্থানান্তরে এই ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে গতি শুরু হয় 1 Mbps থেকে। স্যাটেলাইট ও মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশনে এই ধরণের ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়।

0 মন্তব্যসমূহ